📖 ঐতিহাসিক পটভূমি ও দর্শন

সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ তাআলার যিনি ইসলামকে মানবজাতির জীবন বিধান নির্বাচন করেছেন এবং আসমানি কিতাবসমূহ নাযিল করে ইলমে ওহীর বারি-ধারায় মানব ও দানবকে সিক্ত করেছেন। সালাত ও সালাম শেষ নবী মুহাম্মাদ সা. এর উপর, যিনি ইলমে ওহির আলোকে বিশ্ববাসীকে প্রদর্শন করেছেন সত্য, ন্যায় ও কল্যাণের পথ।

এই পৃথিবী হলো হক বাতিলের লীলাক্ষেত্র। এখানে উভয়ের সংঘাত চলছে আবহমানকাল থেকে। পরিণামে আল্লাহ তাআলা হক ও সত্যকে সর্বদা বিজয়ী ও সমুন্নত করেছেন। দ্বন্দ্ব মুখর এই পৃথিবীতে হক বাতিলের পার্থক্য করে এবং হককে প্রতিষ্ঠিত করতে হযরত আম্বিয়ায়ে কেরামগণকে পাঠিয়েছেন। তাঁদের উপর নাযিল করেছেন আসমানি কিতাব ও সহিফা। বাতিল যে যুগে যেভাবে আবির্ভূত হয়েছে আল্লাহ তাআলা সে যুগে সেভাবে তার মোকাবেলা করেছেন, তার প্রেরিত নবী ও কিতাবের মাধ্যমে। মুহাম্মাদুর রাসূল সা. এর মাধ্যমে নবুওয়াতের ধারা সমাপ্ত হয়েছে আর কুরআনের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়েছে আসমানি কিতাবের ধারা।

বস্তুত আম্বিয়ায়ে কেরামগণ ছিলেন স্ব-স্ব যুগের হক ও হক্কানিয়্যাতের মূর্ত প্রতীক এবং ওহিয়ে এলাহির বাস্তব নমুনা। বাতিলের মোকাবিলায় সর্বশেষ নাযিলকৃত দিক নির্দেশনা হলো আল-কুরআন। এর বাস্তব নমুনা ছিলেন শেষ নবী সা.-এর যথার্থ রূপায়ন হয়েছিল তাঁর জীবন ধারায়। সুতরাং তার ব্যাখ্যা ও সিরাত থেকেই বুঝতে হবে আল-কুরআনকে। সাহাবাগণের সুমহান জামাতকে সে আলোকেই তিনি গড়ে তুলেছিলেন। আর কিয়ামত পর্যন্ত আগত গোটা মানব সম্প্রদায়ের জন্য তিনি সুস্পষ্ট ঘোষণা দিলেন যে, হক ও হক্কানিয়্যাতের অনুসারী, সত্যপন্থি ও নাজাত প্রাপ্ত জামাত হবে তারাই, যারা ঈমান ও আমলের ক্ষেত্রে, ব্যক্তিত্ব, সামাজিক, দৈহিক ও আধ্যাত্মিক সকল ক্ষেত্রে সাহাবাগণের নমুনায় জীবনকে পরিচালিত করবে এবং তাদের আদর্শকে সর্বাত্মকভাবে গ্রহণ করবে। ইসলামে তারাই আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত নামে পরিচিত হবে।

হযরত সাহাবায়ে কেরামের পবিত্র যুগ থেকে অদ্যাবধি এক জামাত কঠোর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে ‘মা আনা আলাইহি ওয়া আসহাবী’-এর অনুসরণ করে আসছেন। এ মহান ধারার উত্তরাধিকারী আইম্মা, মুজাদ্দেদীন, ফুকাহা, মুহাদ্দিসীন ও সুলাহায়ে উম্মত অত্যন্ত বিশ্বস্ততা, বিচক্ষণতা, একাগ্রতা, নিরলস সাধনা, সীমাহীন ত্যাগ ও কুরবানির বিনিময়ে এই দ্বীনের বাস্তবায়ন, হেফাযত, ইশাআত ও প্রচার করে গিয়েছেন। শয়তানিয়্যাতের ছলচাতুরী, ফেরাউনিয়্যাতের উদ্ধতপূর্ণ অহংকার, নমরুদিয়্যাতের রক্তচক্ষু, কারুনিয়্যাতের মোহনীয় লোভ ও প্রলোভন কোন কিছুই তাদেরকে লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি কোন দিন। বরং শত প্রতিকূলতা ও শংকার মধ্যেও হক ও হক্কানিয়্যাতের পতাকা সমুন্নত রাখতে জীবন বাজি রেখে সংগ্রাম করেছেন আমরণ। ইসলামের অতীত ইতিহাস এর নীরব সাক্ষী। উপ মহাদেশে ইসলামের আগমনের পর থেকে সম্রাট আকবর পর্যন্ত ইসলাম তার নীতি আদর্শ নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল সগৌরবে। কিন্তু তার মূর্খতার সুযোগ নিয়ে হিন্দু ব্রাহ্মণবাদীরা যখন ক্ষমতা লোভী সম্রাটের ছত্র ছায়ায় নিজেদের কুটিল চাণক্য মূর্তিকে আড়াল করে হিন্দুয়ানী দর্শনে গঠিত দ্বীনে ইলাহীর নামে নিঃশেষ করে দিতে চাইলো ভারতীয় উপ মহাদেশের ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহকে। তখন ঈমানী চেতনা ও ইলমে ওহির হিকমাহ নিয়ে এগিয়ে এলেন মুজাদ্দিদে আলফে সানী রহ.। ভোগবাদী বস্তুতান্ত্রিক দর্শনের মোকাবেলা করেন শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী রহ.। তুলে ধরেন নববী আলোকে ইসলামের সামাজিক, আর্থিক ও নৈতিক দিকসহ সকল বিধি বিধানকে মুসলমানদের কলজে ছেড়া তাজা খুনের বিনিময়ে যে অর্জিত স্বাধীন এ ভূখণ্ড যখন ধূর্ত শিয়াল ইংরেজদের কূটচাল ও রাজন্যবর্গের ক্ষমতার লোভ ও সীমাহীন দুর্বলতায় হাত ছাড়া হয়ে গেল। গোলামীর জিঞ্জির পরানো হল ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল ভারতীয়দের গলায়। তখন সংগ্রামী ওলামায়ে কেরামগণের ত্যাগ ও জীবনের বিনিময়ে স্বাধীনতা এলো ২০০ বছরের পরাধীন ভারতবর্ষে। এ স্বাধীনতা অর্জনের জন্য আন্দোলন সংগ্রামের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয় দারুল উলুম দেওবন্দ। সেখান থেকে তৈরি হতে লাগল স্বাধীনতার অকুতোভয় সৈনিক, দেশপ্রেমে উজ্জীবিত, ঈমানে পরিপূর্ণ একদল নির্ভীক আলেম। যাদের দুঃসাহসিক নেতৃত্বে অর্জিত হয়েছিল এ উপমহাদেশের স্বাধীনতা।

মুসলিম জনতা পেয়েছিল তাদের ঈমান ও তাহযীব তামাদ্দুনের নিরাপত্তা। এরপর ধর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তান ও হিন্দুস্তান বিভক্ত হয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তান ইসলামী জনতার স্বপ্নপূরণে ব্যর্থ প্রমাণিত হলো। ধোঁকা দিল তখনকার শাসকবর্গ মুসলমানদেরকে। পশ্চিম পাকিস্তানিরা মেনে নিলো পূর্বের চিরস্বাধীনচেতা জনতা মানতে পারেনি তাদের মিথ্যাচার, যার নেপথ্য নেতৃত্বে ছিল ওলামায়ে কেরামগণ। তাইতো শামসুল হক ফরিদপুরী রহ হুংকার দিয়ে উঠলেন জেনারেল আইয়ুব খানের সামনে। ৬১ এর নির্বাচনে পাকিস্তানকে সালাম দিয়ে স্বাধীনতার প্রথম ইঙ্গিত দিলেন মাওলানা ভাসানী। একাত্তরে স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতাদের পরামর্শ দিতেন আল্লামা তর্কবাগীশ রহ.। প্রত্যক্ষ যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন হাজারো ওলামায়ে কেরাম। শাহাদাত বরণ করেন অনেকে। সুতরাং ওলামায়ে কেরামের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সহযোগিতায় বিশ্ব মানচিত্রে স্থান করে নেয় লাল সবুজের বাংলাদেশ। ৭১ এর স্বাধীনতা অর্জনের মাধ্যমে মানচিত্র ও পতাকা পেলেও এদেশের ৯৫ ভাগ মুসলমান এখনো পায়নি তাদের পরিপূর্ণ ধর্মীয় পরিবেশ। ১৮ কোটির বাংলাদেশে এখনো উন্নতি হয়নি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের। বন্ধ করা যায়নি খুন, ধর্ষণ, লুণ্ঠন ও অসভ্যতা। মাদকের ভয়াল থাবা গ্রাস করে নিয়েছে যুবক-যুবতী, আবাল-বৃদ্ধ সবাইকে। এছাড়াও অনেকেই কুরআন তেলাওয়াত জানে না। জানে না ইসলামী বিধিবিধান। অবস্থা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, শুধু পোশাক নয় অন্তর থেকেও ইসলাম বেরিয়ে যাবার উপক্রম। সামান্য কিছু অর্থলোভে নিজের মূল্যবান ঈমান বিক্রি করে দিচ্ছে মুসলমানেরা।

এ ব্যাপারে রাষ্ট্রীয় কোন যথোপযুক্ত পদক্ষেপ নেই, যা রয়েছে তা সামান্য মাত্র। ওলামায়ে কেরামগণের প্রশংসিত কিছু মেহনত পরিলক্ষিত হলেও তা পর্যাপ্ত ও গোছানো নয়। এসব অপূর্ণতা থেকে মুক্তি পেতে শতভাগ মুসলিমকে নামাজে যত্নবান হতে প্রতিটি মুসলিম শিশুকে কুরআনে কারীমের বিশুদ্ধ তেলাওয়াতে পারদর্শী করে তুলতে বাবুস সালাম ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করা। আর এজন্য বাবুস সালাম ফাউন্ডেশন কিছু লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করেছে।

⚡

বর্তমান সংকট ও ফাউন্ডেশনের প্রয়োজনীয়তা

আজকের স্বাধীন বাংলাদেশে মানচিত্র পেলেও অধিকাংশ মুসলমান কুরআন শিক্ষা ও ধর্মীয় চেতনা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। মাদক, অশ্লীলতা, নাস্তিক্যবাদ ও কাদিয়ানীয়তের মতো ফেতনা সমাজকে গ্রাস করছে। এই সংকট উত্তরণে দাওয়াত, তালিম ও তারবিয়াতের সমন্বয়ে দেশব্যাপী বহুমুখী বিপ্লব সাধনের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে "বাবুস সালাম ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ"।

🎯 মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ

০১ 🤲

আল্লাহর সন্তুষ্টির মাধ্যমে দুনিয়া ও আখেরাতের চিরন্তন সৌভাগ্য অর্জন করা।

০২ 📖

শতভাগ মুসলিম সন্তানকে বিশুদ্ধ কুরআন শিক্ষা ও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে যত্নবান বানানো।

০৩ 👨‍👩‍👦

প্রতিটি মুসলিম পরিবার থেকে অন্তত একজন হাফেজ, আলেম বা ক্বারী গড়ে তোলা।

০৪ 🌍

সারা দেশে দ্বীনদার পরিবেশ তৈরি এবং অমুসলিমদের মাঝে ইসলামের শান্তির বাণী পৌঁছে দেওয়া।

০৫ 🛡️

সমাজ থেকে বিদআত, শিরক ও বাতিল ফেরকা (বিশেষত কাদিয়ানী সম্প্রদায়)-র বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা।

০৬ 🤝

ইয়াতীম, অসহায় ও পথশিশুদের পুনর্বাসন এবং ধর্মীয় শিক্ষাদানের মাধ্যমে সমাজের সম্পদে রূপান্তর করা।

০৭ 🕌

দাওয়াত, তালিম, তাযকিয়া— এ তিনের সমন্বয়ে আদর্শ দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কায়েম করা।

০৮ 🕋

সকল স্তরের মুসলিম ভাই-বোনদেরকে জামাতের সাথে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযে যত্নবান বানানো।

🗺️ জাতীয় মহাপরিকল্পনা ও প্রাতিষ্ঠানিক বিস্তার

সমগ্র বাংলাদেশে দ্বীনি বিপ্লব ও নৈতিক জাগরণ সৃষ্টির লক্ষ্যে বাবুস সালাম ফাউন্ডেশন গৃহীত যুগান্তকারী ৯টি বিভাগীয় পরিকল্পনা:

১

📚 মাদ্রাসা শাখা (স্তরভিত্তিক বিস্তার)

  • ওয়ার্ড ও মহল্লা পর্যায়: প্রতিটি ওয়ার্ডে/মহল্লায় একটি করে প্রাইমারি স্তরের কুরআন শিক্ষার আদর্শ নূরানী মক্তব প্রতিষ্ঠা করা।
  • ইউনিয়ন ও পৌরসভা পর্যায়: প্রতিটি ইউনিয়ন/পৌরসভায় একটি করে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের (শরহে বেকায়া পর্যন্ত) মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা।
  • থানা ও উপজেলা পর্যায়: থানা/উপজেলা পর্যায়ে একটি স্নাতক মান/সম্মান (মেশকাত পর্যন্ত) মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা।
  • জেলা পর্যায়: জেলা পর্যায়ে একটি করে দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স ডিগ্রি) সম্পন্ন কেন্দ্রীয় জামিয়া (বিশ্ববিদ্যালয়) প্রতিষ্ঠা করা।
  • প্রশিক্ষণ ও গবেষণা: প্রতি জেলায় মাদ্রাসাসমূহের মানোন্নয়নের লক্ষ্যে শিক্ষক-কর্মচারী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, সাময়িক কর্মশালা, সেমিনার ও আলোচনা সভা ইত্যাদির ব্যবস্থা করা।
২

🕌 মসজিদ শাখা

  • মসজিদ আবাদকরণ: দেশের প্রতিটি মসজিদকে দাওয়াত, তালিম, জিকির, এবাদত এবং খেদমতের আমল দ্বারা সার্বক্ষণিক আবাদ করা।
  • ইমাম প্রশিক্ষণ কর্মশালা: সকল মসজিদের সম্মানিত ইমামগণকে যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, যাতে তাঁরা নিজ মহল্লাসহ সকল মুসলমানদেরকে আমলের উপর উঠাতে পারেন এবং জরুরি দ্বীনি ইলম শিক্ষা দিতে পারেন।
  • সংস্কার ও নতুন নির্মাণ: পুরোনো ও জরাজীর্ণ মসজিদগুলো সংস্কার করা এবং প্রয়োজন সাপেক্ষে নতুন মসজিদ নির্মাণ করা।
৩

🗣️ দাঈ শাখা

  • ব্যাপক দাঈ নিয়োগ: প্রতিটি ওয়ার্ডে, ইউনিয়নে, থানায়/উপজেলায় এবং জেলায় একজন করে প্রশিক্ষিত ও নিবেদিতপ্রাণ দাঈ নিয়োগ করা, যাঁরা সার্বক্ষণিক দ্বীনি দাওয়াতের মেহনত পরিচালনা করবেন।
৪

📖 মুয়াল্লিম শাখা

  • প্রতিটি থানা পর্যায়ে (সম্ভব হলে ইউনিয়ন পর্যায়ে) সহীহ ও শুদ্ধ কুরআন শিক্ষা দানের জন্য একজন করে অভিজ্ঞ মুয়াল্লিম নিয়োগ দেওয়া।
  • দেশের প্রতিটি প্রাইমারী স্কুলে শিশুদের বুনিয়াদি দ্বীনিয়াত ও কুরআন শিক্ষার জন্য একজন করে নূরানী মুয়াল্লিম নিয়োগ দেওয়া।
৫

📿 তরবিয়ত শাখা (খানকা)

  • প্রতিটি মাদ্রাসায় আত্মশুদ্ধির পরিবেশ সৃষ্টির জন্য একটি করে খানকা প্রতিষ্ঠা করা।
  • মাদ্রাসাসমূহের সকল আসাতেযায়ে কেরাম এবং বড় ছাত্রদেরকে কোনো হক্কানী আল্লাহওয়ালার সাথে নিসবত কায়েম করে পরিপূর্ণ আত্মশুদ্ধির ব্যবস্থা করা।
  • এলাকার সাধারণ মুসলমানদেরকে খানকায় এনে দৈনিক/সাপ্তাহিক/মাসিক হালকায়ে জিকির কায়েম করে, জিকরুল্লাহর তালিমের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার সাথে জীবন্ত সম্পর্ক কায়েম করা।
৬

🧕 নারী উন্নয়ন শাখা

  • পুরুষদের ন্যায় মহিলাদেরও সুশিক্ষিত ও আদর্শ দ্বীনদার করে গড়ে তোলার জন্য স্তরভিত্তিক মহিলা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা।
  • প্রতিটি ঘরে ঘরে তালিমের হালকা ব্যবস্থা করে সকল মহিলাদের মধ্যে দ্বীনি পরিবেশ কায়েম করা এবং শর্ত সাপেক্ষে প্রতিটি মহল্লায় মহিলাদের ইজতেমায়ী তালিমের ব্যবস্থা করা।
  • একটি সুন্দর ও আদর্শ পরিবার গঠনে নারীদের ঘরের যাবতীয় সুন্নতী ও কল্যাণকর কর্মপদ্ধতি শিক্ষাদান করা।
৭

✍️ প্রকাশনা শাখা ও পাঠাগার

  • দ্বীনের কোনো গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জটিল বিষয় এবং আধুনিক যুগ-জিজ্ঞাসার জবাব পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে সুস্পষ্টভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরা।
  • প্রিন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গবেষণাধর্মী পুস্তিকা, গ্রন্থ রচনা অথবা সাময়িকী, সাপ্তাহিক কিংবা দৈনিক পত্রিকা প্রকাশ করা।
  • উচ্চতর গবেষণা ও জ্ঞানার্জনের সুবিধার্থে বৃহৎ আকারে সমৃদ্ধ কুতুবখানা (পাঠাগার) প্রতিষ্ঠা করা।
৮

🌍 অমুসলিমদের দাওয়াত শাখা

  • বিশ্বের সকল অমুসলিমদের জন্য প্রতি ১ লক্ষে একজন করে যোগ্য ও আদর্শ দাঈ নিয়োগ করা।
  • যেই দাঈকে যে এলাকায় প্রেরণ করা হবে, তিনি ওই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে যাবেন এবং আজীবন সেই এলাকার অমুসলিমদের মাঝে ইসলামের শান্তির বাণী পৌঁছে দেবেন।
  • পরিকল্পিতভাবে তালিকা তৈরি করে ১ লক্ষ অমুসলিমকে ইসলামের সুমহান দাওয়াত প্রদান করা (তবে কোনো প্রকার বাধ্যবাধকতা বা জবরদস্তি করা যাবে না)।
৯

🤝 ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ শাখা

  • সমাজের বিত্তবান ও দানশীল ব্যক্তিদের নিকট হতে যাকাত, ফেতরা, মানত অথবা সাধারণ নফল দান-অনুদান সংগ্রহ করা।
  • গৃহীত অনুদান শরীয়তসম্মতভাবে সমাজের অসহায়, বিধবা, এতিম ও দরিদ্র পরিবারের পুনর্বাসনে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে শতভাগ স্বচ্ছতার সাথে সঠিকভাবে বণ্টন ও ব্যয় করা।

দ্বীনের এই মহান বিপ্লবে আপনিও শরিক হোন

বাবুস সালাম ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের এই জাতীয় মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে আপনার আন্তরিক দোয়া, সুপরামর্শ এবং সাদকায়ে জারিয়ার মাধ্যমে এগিয়ে আসুন।

❤️ অনুদান পাঠাতে এখানে ক্লিক করুন